H2

সব থেকেও কেন মনে হয় যেন কিছুই নেই, আরো চাই

সব-থেকেও-কেন-মনে-হয়-যেন-কিছুই-নেই


সব থেকেও কেন মনে হয় ?


জীবনের সবকিছু আছে, অর্থ, যশ, প্রতিপত্তি, গাড়ি-বাড়ি আর যা যা লাগে। কিন্তু কোনো কিছুতেই যেন প্রাণ নেই। সেই নির্মল আনন্দ নেই যা থেকে শান্তির অনুভূতি এসে না পাওয়ার ভাবনাকে ভুলিয়ে দিতে পারে এক লহমায়। 

একটা সময় ছিল যখন কোন কিছুই ছিল না, এই আসবাব, এই বাড়ি, এই অর্থ, এই প্রতিপত্তি, কিন্তু তখন একটি বস্তু ছিল মানষিক শান্তি যা সব না পাওয়া কে হারিয়ে দিতো। তেমন কিছু না থেকেও মনে হতো অনেক কিছু আছে। সত্যিই আজ সেই বড়ই দামি জিনিসটার খুবই অভাব। তাই মনে হয় সব কিছু থেকেও কিছুই নেই। এমনকি মনে হয় বেঁচে আছি, কি মরে গেছি সেই অবস্থা সম্পর্কেও কোন স্বচ্ছ ধারনা নেই। কেন এরকম হয় ? কিভাবে এর থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ? কোথায় আছে শান্তি ? কোথায় তারে খুঁজে পাই ?


বাহ্যিক সুখ


আসলে সব কিছুই তার নিজস্ব জায়গাতেই রয়েছে। শুধুমাত্র আমরা বাহ্যিক সুখ সন্ধানে কোন বিশেষ বস্তু কে ভুলে যাই বা এড়িয়ে যাই। বাহ্যিক সুখ এবং অন্যান্য বস্তুকে আহরণ করতে গিয়ে সত্যিই যে জিনিসটার বিশেষ করে প্রয়োজন। অন্তত আজকের দিনে যার অনেক বড় অবদান রয়েছে, তাকেই আমরা এড়িয়ে যাই অজান্তেই। 

তাহলে আমাদের ভাবনা, সত্তা, জীবনের উদ্দেশ্য ইত্যাদি বস্তূ গুলি যদি ঠিক করে এনালাইজ করতে পারি, তবে জীবনের সুখ, শান্তি এবং জীবনের সংকল্পদের পুনরায় ফিরিয়ে আনতে পারবো। আমাদের জীবনে আবার ফিরতে পারে সুখ, সমৃদ্ধি ও সর্বোপরি শান্তি। কিন্ত এখন মূল প্রশ্ন হলো এতো বড় উদ্দেশ্য সফল করা কেমন করে সম্ভব ? চলুন তবে উত্তর খুঁজে নিই। 

সবার আগে সুখ সন্ধানে নেমে আমাদের যেটা জানতে হবে সেটা হল পজিটিভ এনার্জি অর্থাৎ ধনাত্মক শক্তির কথা। সেই শক্তি আমাদেরকে নতুন করে বাঁচতে শেখাবে। নেই নেই থেকে, সবকিছু আছে - র জগতে নিয়ে আসবে। 


অন্বেষণ করে চলেছি


আজকে দেখুন অর্থ, প্রতিপত্তি, সম্মান সবকিছুই আমাদের মধ্যে আছে। কিন্তু আমরা সব পেয়েছির জগতে থাকতে ভুলে গেছি। আমরা অন্যের ঘর অন্বেষণ করে চলেছি। আরো আরো অনেক কিছু চাই আমরা। তাই সব থাকতেও কিছুই নেই এর জগতেই রয়ে গেছি। কেননা আমরা সেই পজিটিভ এনার্জি থেকে অনেক দূরে সরে গেছি। মনকে আমরা বোঝাতে শিখেছি যতই পাই তাতেও শুধু ভাববো এতো পেয়েও আমি সুখী নই। 

এতেও আমার জীবন পূর্ণ নয়। আরো অনেক চাই। তাই এত কিছু থেকেও এগুলো নেই এর পর্যায়ে চলে গেছে। এগুলোর মধ্যে আর কিছুই নেই। এভাবেই নেগেটিভ ভাবনা থেকে নেগেটিভ ভাইব্রেশন তৈরী হয়ে প্রতিনিয়ত আমাদেরকে গ্রাস করে নিচ্ছে।


তিনি দুঃখ করেন


এই পরিস্থিতিতে একটা ছোট্ট গল্প উদাহরন হিসেবে কাজ করবে। এক গরীব ব্রাহ্মণ প্রতিদিন ভোজনে বসার সময় পাশের বাড়ির ডাল এবং সবজির গন্ধ পান। আর তার কিছুই জোটে না। তিনি কোনরকম জল ও লবন দিয়ে ভাত খেয়ে দিন কাটান। আর তার নাকে ওই সুখাদ্যের গন্ধ আসে। তিনি দুঃখ করেন এবং মনে মনে ভাবতে থাকেন। কবে আসবে সেই দিন, যেদিন তিনি ওই রকম সুন্দর করে ডাল এবং বিভিন্ন সবজির সমারোহে খেতে বসবেন। কবে আসবে সেই দিন। 

মানুষের দিন একরকম যায় না। তাই পরমাত্মা তার জীবনে সেইদিন নিয়ে আসলেন। তার যোগাড় হল ডাল এবং সবজির সমারোহে ভোজনের আয়োজন। মহানন্দে তিনি খেতে বসলেন। 

আজ তার বাসনা পূর্ণ হয়েছে। তাকে আর শুধু জল দিয়ে ভাত খেতে হবে না এবং অপরের খাওয়ার গন্ধ তাকে ভোগ করতে হবে না। এবারে তিনি আনন্দ করে সেই ভাত গ্রহণ করতে যাবেন, ঠিক সেই মুহূর্তে তার পাশের বাড়ি থেকে আমিষ তরকারির গন্ধ এলো। কারণ সেই দিন পাশের বাড়ির মানুষেরা আমিষ দিয়ে ভোজন করছিলেন। ভোজন আনন্দ দূর হয়ে গেল ব্রাহ্মণের। 


উচ্চাকাঙ্ক্ষায় ভরে গেল


তিনি পরম আনন্দে সবজি ভাত খেতে পারলেন না। তার মন আবার উচ্চাকাঙ্ক্ষায় ভরে গেল, এই ভেবে যে তার আমিষ ভোজন জুটলো না কপালে। তিনি দুঃখের সাথে চিৎকার করে বলে উঠলেন "আমার কপালে কিছুই নেই"। আর এই বলে ব্রাহ্মণ না খেয়ে উঠে পড়লেন। এখান থেকে একটি ছোট্ট জ্ঞান আমরা গ্রহণ করতে পারি।

নিজের বাস্তব পরিস্থিতিকে যদি আমরা পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে ভাবি। তবে কিন্তু সব রকম পরিস্থিতি কে আমরা আপন করে নিতে পারব এবং সেখানেই সুখ খুজে পাব। আজকে গরিব ব্রাম্হন যিনি সামান্য জল ভাত খেয়ে দিন কাটাতেন। হঠাৎ তিনি সবজি ভাত জোগাড় করতে পারলেন। তা তিনি পরম আনন্দে গ্রহণ করতেই পারতেন। 

কিন্তু পাশের বাড়ির সেই আমিশ তরকারির গন্ধ আসার সঙ্গে সঙ্গেই তার চিন্তা ভাবনায় পরিবর্তন হয়ে গেল। তিনি তার নেগেটিভ চিন্তাভাবনা থেকে বের হতে পারলেন না। তিনি সেখানেই পড়ে থাকলেন। আজ তার সবকিছু জুটেছিল অর্থাৎ যা যা তিনি কল্পনা করেছিলেন। 


পজিটিভ এনার্জি


আজ তিনি যদি ভাবতেন, তিনি যা কল্পনা করেছিলেন তার সবটাই পরমাত্মা জুটিয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি পরম আনন্দে সেই ভোগ গ্রহণ করতেই পারতেন এবং নিজের আত্মাকে শান্তি দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করলেন না। তিনি সেই পজিটিভ এনার্জি থেকে নিজেকে দূরে নিয়ে গেলেন আর নেই নেই এর জগতে হারিয়ে গেলেন।

এই গল্পটা গল্প হলেও আমাদের জীবনের একটি কঠিন বাস্তব রূপ। আসলে আমরা সবকিছু পাওয়ার পরেও শুধু অন্বেষণ করি আরো, আরো বৃহৎ কিছুর। কিন্তু সেটা যে মরীচিকা হতে পারে সেটা আমাদের ধারণার বাইরে। তাই সবার আগে আমাদের মানসিক দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক করতে হবে। 


এক লহমায় ভেঙে যায়


আর একটি খুব ভালো উদাহরণ হতে পারে, যেমন আমরা বিয়ের আগে সমস্ত কিছু যাচাই করে নিই, হস্তরেখা, কুন্ডলি ইত্যাদি সবকিছু অর্থাৎ সমস্ত বিষয় গুলোকে আমরা বিচার করে তবেই একটি সম্পর্ক স্থাপন করি। কিন্তু কি এমন ঘটে যে সেই সম্পর্ক যা ধীরে ধীরে সব নিয়মনীতি মেনে তৈরী করা হয়েছিল, কেন এক লহমায় ভেঙে যায়। কি এমন ঘটে এর পেছনে, ভেবে দেখেছেন ? 

সেই একটি বিষয়বস্তূ কাজ করে, "নেগেটিভ চিন্তাভাবনা"। আমরা বাইরেটা তো খুব ভালোভাবে দেখতে পাই এবং সেটাকে আমাদের উপযুক্ত করার জন্য যথেষ্ট ভালো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। কিন্তু যেটা পারি না সেটা হলো আমাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যার মোকাবিলা করা । সর্বোপরি মানুষিক দৃষ্টিভঙ্গির দুর্বলতা আমাদেরকে তা করতে দেয় না। 


চিন্তাভাবনা জন্ম নেবে


নয়তো একবার ভেবে দেখুন, যখন সবকিছু বিচার করে একটি সম্পর্ক তৈরী হয়, তখন কেন সেই সম্পর্ক ভেঙে যাবে। এইজন্যই যদি সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে আমরা নিজেদেরকে পজেটিভ ভাবনা চিন্তায় নিয়ে যাই, তবে কিন্তু কোন সম্পর্ক ছিন্ন হবে না। তা কোনো কোষ্ঠী বা হস্তরেখা মিলিয়েই হোক বা না হোক কোনো সম্পর্কই ছিন্ন হবে না। 

তাই সর্বোপরি নিজের প্রতি বিশ্বাস, আস্থা এবং সুচিন্তার উৎপত্তি আমাদেরকে সব সমস্যার থেকে দূরে নিয়ে যেতে পারে। আর এইগুলো তখনই আসবে যখন আমাদের মধ্যে পজিটিভ চিন্তাভাবনা জন্ম নেবে।


নিজেকে আঘাত করে


একটা বিষয় ভেবে দেখবেন, যখন আমরা কাউকে দোষারোপ করি, বাজে কথা বলি তখন আমাদের শরীরে তার ভাইব্রেশন হতে থাকে। সেই খারাপ প্রভাব অর্থাৎ মনের মধ্যে যে অস্থিরতা কাজ করে তা কিন্তু খুব বেশি করে নিজেকে আঘাত করে। 

অপরকে শুধু বাহ্যিক ভাবে আঘাত দিতে গিয়ে কিন্তু সবচেয়ে বেশি আঘাত আমরা নিজেরা পাই। আমাদের মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয় এবং সেই অস্থিরতার ফলে আমরা শারীরিকভাবে দুর্বল হতে থাকি। তাই অপরকে দোষারোপ করার মানেই কিন্তু আমরা নিজেদের ক্ষতি করছি অজান্তেই।


কর্মযোগ 


যেমন আমরা কোন দোকান, বাড়ি বা অন্য কোন গৃহ তৈরি করেছি এবং তার থেকে যেন নিজেদের উন্নতি ও শ্রীবৃদ্ধি হয় সেই কারণে ভালোভাবে বাস্তুশাস্ত্র এবং অন্যান্য যা কিছু প্রয়োজন হয় সবকিছু করলাম। কিন্তু তারপরও কেন ব্যবসা বা অন্য কোনো কর্মযোগ সেখানে মুখ থুবরে পড়ে ?কেন সবাই তাদের কর্ম জগতে উন্নতির মুখ দেখে না। সবাইতো বাস্তুশাস্ত্র এবং অন্যান্য যা কিছু প্রয়োজন সব দেখে শুনে এগিয়ে যান। 

আসলে এখানেই নেগেটিভ এনার্জি বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। সমস্যা টি যে আমাদের মধ্যেই আছে সেটা কিছুতেই ধরতে পারি না। তাই সেই দোষ গিয়ে পড়ে বাস্তুশাস্ত্রের উপর। ভাবতে থাকি হয়তো বাস্তুশাস্ত্র আমরা সঠিকভাবে পর্যালোচনা করিনি বা ঠিকঠাক দেখিনি। তাই হয়তো দোকানের বা ব্যবসার উন্নতির কোনো সুযোগই নেই। কিন্তু আমরা কখনই ভেবে দেখি না, যে আমরা কি সঠিক ভাবনাচিন্তা নিয়ে আমাদের কর্ম জগতে এগিয়েছি।


প্রাত্যহিক জীবনযাপনের পরিবর্তন


সবার শেষে মানুষ চায় সবকিছুর পরিবর্তন ঘটিয়ে যদি সুখ আসে জীবনে। এই করতে গিয়ে মানুষ গৃহের পরিবর্তন, কর্মস্থলের পরিবর্তন, নিজের নামের পরিবর্তন, এমনকি নিজের স্ত্রী পর্যন্ত পরিবর্তন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু আসল পরিবর্তনের দিকে মানুষের মন কখনোই চায় না। সেটা হলো নিজের পরিবর্তন। নিজের ভাবনা, চিন্তা, নিজের কর্ম, নিজের প্রাত্যহিক জীবনযাপনের পরিবর্তন।  

কিন্তু বাইরের জগতের পরিবর্তন এর থেকেও অনেক বেশি দামি, অনেক বেশি প্রয়োজনীয় ভাবনার পরিবর্তন। সেটা যেদিন মানুষ বুঝতে পারবে সেদিন বাইরের জগতকে আর কোনভাবেই পরিবর্তন করতে হবে না। এমনিতেই সুখ, শান্তি বিরাজ করবে তার জীবনে।


ধনাত্মক শক্তির ভাইব্রেশন


এর সমাধান করতে একটি মন্ত্রের উচ্চারণ করতে হবে। না তেমন কোনো শক্ত মন্ত্র নয়। শুধু মনকে বোঝাতে হবে, আছে সবকিছু আছে, হবে নিশ্চয়ই হবে, হ্যাঁ আমিই পারবো, অবশ্যই যতটুকু আছে ততটুকু তেই আমি খুশি। এভাবেই নেগেটিভ অর্থাৎ না থেকে হ্যাঁ তে রূপান্তরিত করে মনের মধ্যে ধনাত্মক শক্তির ভাইব্রেশন আনতে হবে।
এতে যে সঠিক ভাইব্রেশন টা হবে, তাতেই আমাদের শরীর, মন, পরিবেশ এমনকি জীবন ধনাত্মক শক্তির দিকে এগোবে। আমরাও চলে যাব সব পেয়েছির দেশে। কারণ হ্যাঁ শব্দের মধ্যে যে শক্তি আছে তার ক্ষমতা অনেক বেশি।

আর যদি এটা খুব কঠিন মনে হয় তবে প্রতিদিন নিয়ম করে পরমাত্মাকে জানার চেষ্টা করুন। ঈশ্বরকে মনে মনে সংকল্প করুন। তার বলে দেওয়া পথে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। দিনে রাতে যখন সময় পান একবার হলেও তার স্মরণ নিন। তিনিই একমাত্র পথ দ্রষ্টা। তিনিই একমাত্র সুপথ দেখাতে পারেন আপনাকে। তিনিই পারবেন আপনার ভেতরের ক্ষমতাকে জাগরিত করতে। তিনি পারবেন আপনাকে নেগেটিভ শক্তিকে পজিটিভ শক্তিতে রূপান্তরিত করতে।


দুর্বলতাকে দূর করো


একবার ভেতরের ক্ষমতা জাগরিত হলে, বাইরের কোনো কিছুই আপনাকে টলাতে পারবে না। কোন নেগেটিভ দিক আপনার মনের মধ্যে বাসা বাঁধতে পারবেনা। না থেকে আপনার জীবন হ্যাঁ বলায় অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। সেই পথ আপনাকে আলোর দিশা দেখাবে।

তাই জীবনকে বাঁচাতে, অন্যকে ভালো রাখতে এবং সঠিক পথ খুঁজে পেতে আমাদেরকে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতাকে জাগরিত করতে হবে। তাই আসুন বলি হে মহান ঈশ্বর আমাকে সঠিক পথ দেখাও। আমার অন্তরের দুর্বলতাকে দূর করো। আর একবার উন্নত মস্তকে বাঁচার সুযোগ করে দাও। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ

H2